চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একটি পোল্ট্রি খামারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে অন্তত আড়াই হাজার ব্রয়লার মুরগি।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের বটতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দমকল পৌঁছানোর আগেই ছাই হয়ে যায় পুরো খামার
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই খামার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বালতি ও পাইপ দিয়ে পানি ঢালার চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কাঠ, টিন আর বাঁশ দিয়ে তৈরি পুরো খামার ধসে পড়ে।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ ক্ষতি হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দলটি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে প্রায় ৪০ মিনিট চেষ্টার পর।
প্রাথমিক ধারণা—বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট
ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। খামারের ভেতরে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার ঝুলে ছিল এবং আর্দ্র পরিবেশে অতিরিক্ত চাপ পড়ায় আগুন লেগে থাকতে পারে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “খামারটি কাঠ ও টিনের হওয়ায় আগুন খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে প্রচুর খড় ও শুকনো খাদ্য ছিল—যা আগুনকে আরও বাড়িয়ে দেয়।”
ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ টাকার বেশি দাবি মালিকের
খামারের মালিক আলা উদ্দিন জানান, পাঁচ দিন আগে তিনি আড়াই হাজার ব্রয়লার বাচ্চা খামারে তুলেছিলেন। সেই মুরগিগুলো বাজারজাতের উপযোগী হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি ছিল।
তার ভাষায়,
“সবকিছু শেষ হয়ে গেল। ফেরার কোনো পথ রাখল না আগুন। প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হলো। ব্যাংক ঋণ নিয়ে খামার করেছিলাম—এখন কীভাবে সামাল দেব বুঝতে পারছি না।”
গ্রামে আতঙ্ক, নজরদারি বাড়ানোর দাবি
ঘটনার পর আশপাশের খামার মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অভিযোগ করছেন, গ্রামে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ, পুরোনো তার, এবং নন-স্ট্যান্ডার্ড কানেকশন নিয়মিতই ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিককে সহায়তার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্পাদক : সৈয়দ মিজান সমরকন্দী
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত