
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সংগ্রহ করা সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি শীতের শুরুতেই টনসিল-সম্পর্কিত গলার সমস্যায় রোগীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। চিকিৎসকদের ধারণা, শুষ্ক ও ধুলাবালুময় আবহাওয়া, বারবার ঠান্ডা পানি পান এবং মৌসুমী ভাইরাল সংক্রমণ এই বাড়তির মূল কারণ।
চট্টগ্রাম মেডিকেলের ইএনটি বিভাগের এক সিনিয়র চিকিৎসক জানান, “মানুষ ঠান্ডা লাগলে শুধু সর্দি-কাশি ভাবছে, কিন্তু টনসিলের প্রদাহ নীরবে বাড়ছে। অনেকেই বছরজুড়ে ভুগলেও শীতে তা মারাত্মক হয়।” তাঁর ভাষায় দীর্ঘদিনের অবহেলাই এখন বড় ঝুঁকি।
যে সংকেতগুলো শীতেই বেশি দেখা যায়
রোগীরা সাধারণত গলা শুকিয়ে আসা, গিলতে কষ্ট, খাবার নামাতে ব্যথা এবং মাঝে মাঝে জ্বরের মতো লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে ফুলে ওঠা টনসিল শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা তৈরি করছে—যা বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তৎপরতা: ‘প্রতিরোধই এখন প্রধান ওষুধ
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের সময় কিছু সহজ নিয়ম মানলে টনসিলের সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
গরম পানিতে গার্গল, প্রচুর পানি পান, ধুলোবালুর সময় মাস্ক ব্যবহার এবং ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলার কথা তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। ভাইরাল সংক্রমণ সন্দেহ হলে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তারা।
অবহেলা মারাত্মক হতে পারে
চিকিৎসকদের অভিমত, বছরের পর বছর টনসিলের ব্যথাকে ‘মৌসুমি ঝামেলা’ মনে করে কেউ কেউ গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই অবহেলাই অনেক সময় ক্রনিক টনসিলাইটিসে রূপ নিয়ে ঘনঘন সংক্রমণ সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতি শিশুর ক্ষেত্রে আরও জটিল হতে পারে।
এই শীতে তাই বিশেষজ্ঞদের পরিষ্কার পরামর্শ—গলার ব্যথা হালকা মনে হলেও নজর দিন, কারণ আপনার টনসিল শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থারই অংশ। একটু যত্ন নিলেই এই ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে, আর শীতও উপভোগ্য হবে আরও বেশি।